Skip to main content

Posts

Showing posts from September, 2020

গর্ভকালীন সময়ে নারী শ্রমিকরা কী কী সুবিধা পেয়ে থাকে?

গর্ভকালীন সময়ে নারী শ্রমিকরা কী কী সুবিধা পেয়ে থাকে? শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারে একজন নারী শ্রমিক মা হওয়ার সময় মোট ১১২ দিন মজুরি ও অন্যান্য সুবিধাসহ ছুটি পাবেন। নারী শ্রমিক বাচ্চা হওয়ার আগে ৫৬ দিন বা ৮ সপ্তাহ ছুটি পাবেন। বাচ্চা হওয়ার পরও ৫৬ দিন বা আট সপ্তাহ ছুটি পাবেন। এ ছাড়া ওই নারী শ্রমিক ছুটিতে যাওয়ার আগের তিন মাসে মোট যে মজুরি পাবেন তার দৈনিক গড় হিসেবে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাবেন। এবং নারী শ্রমিক মোট ১১২ দিনের জন্য ভাতা পাবেন। এ ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তারের কাছে থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে আট সপ্তাহের মধ্যে সন্তান জন্মানোর সম্ভাবনার বিষয়টি মালিককে জানালে তিনি তিন দিনের মধ্যে ৫৬ দিনের প্রসূতি কল্যাণ ভাতা দিবেন। সন্তান হওয়ার পর মা শ্রমিক মালিকের কাছে প্রমাণ পেশ করলে, প্রমাণ পেশের তারিখ থেকে তিন দিনের মধ্যে বাকি ৫৬ দিনের ভাতা দেবেন । তবে শর্ত হলো এর আগে ওই প্রতিষ্ঠানে মা শ্রমিককে ছয় মাস চাকরি করতে হবে। এ ছাড়া সন্তান হওয়ার সময় মা যদি মারা যান, তাহলে তার সন্তান উত্তরাধিকারী প্রসূতি কল্যাণ ভাতা পাবে। সন্তানও যদি মারা যায় তাহলে তার স্বামী উত্তরাধিকারী ভাতা পাবে।

বিনাশ্রম কারাদন্ডের ধারাসমূহ

শুধুমাত্র বিনাশ্রম কারাদন্ডের ধারাসমূহ: ১৬৩, ১৬৬, ১৬৮, ১৬৯, ১৭২, ১৭৩, ১৭৪, ১৭৫, ১৭৬, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০, ১৮৭, ১৮৮, ২২৩, ২২৫-ক(খ), ২২৮, ২৯১, ৩০৯, ৩৪১, ৩৫৮, ৫০৯, ৫১০

যাবজ্জীবন কারাদন্ডের ধারাসমূহ

যাবজ্জীবন কারাদন্ডের ধারাসমূহ: ১২১, ১২১-ক, ১২২, ১২৪-ক, ১২৫, ১২৮, ১৩০, ১৩২, ১৯৪, ১৯৫, ২২২, ২২৫ (মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত ব্যক্তিকে আইনসঙ্গত হেফাজতে বাধা দিলে), ২৩২, ২৩৮, ২৫৫, ৩০২, ৩০৪, ৩০৫, ৩০৭, ৩১১, ৩১৩, ৩২৬, ৩২৬-ক, ৩২৯, ৩৬৪, ৩৬৪-ক, ৩৭১, ৩৭৬, ৩৭৭, ৩৮৭, ৩৮৮, ৩৮৯ (সম্পত্তি আদায়ের জন্য কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধে অভিযুক্ত করার অস্বাভাবিক ভয় দেখালে), ৩৯৪-৩৯৬, ৪০০, ৪০৯, ৪১২, ৪১৩, ৪৩৬, ৪৩৮, ৪৪৯, ৪৫৯, ৪৬০, ৪৬৭, ৪৭২, ৪৭৪, ৪৭৫, ৪৭৭, ৪৮৯-ক, ৪৮৯খ, ৪৮৯-ঘ, ধারা। এছাড়া বিশেষ কয়েকটি আইনের ধারায়ও যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধান রয়েছে।

মৃত্যু দন্ডের ধারাসমূহ

মৃত্যু দন্ডের ধারাসমূহ: ১২১, ১৩২, ১৯৪, ৩০২, ৩০৩, ৩০৫, ৩২৬-ক, ৩৬৪-ক, ৩৯৬ দন্ডবিধির মোট ৯টি ধারায় এবং আরো কয়েকটি বিশেষ আইনের ধারায়ও মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪, এসিড অপরাধ দমন আইন ২০০২, ইত্যািদি।

জামিন অযোগ্য অপরাধের ধারা সমূহ

জামিন অযোগ্য অপরাধের ধারা সমূহ: ৩৫৩, ৩৫৬, ৩৬৪, ৩৬৪ক, ৩৬৫, ৩৬৬ক, ৩৬৬খ-৩৬৯, ৩৭১-৩৭৩, ৩৭৬-৩৮২, ৩৮৫-৩৮৭, ৩৯২-৪০২, ৪০৬-৪১৪, ৪৩৬-৪৪০, ৪৪৯, ৪৫০, ৪৫২-৪৬০, ৪৬৬-৪৬৮, ৪৮৯ক, ৪৮৯খ, ৪৮৯ঘ, ৪৯৩, ৫০৫, ৫০৫ক, ৫১১।

জামিনযোগ্য অপরাধের ধারা সমূহ

জামিনযোগ্য অপরাধের ধারা সমূহ: ৩৩৪-৩৫২, ৩৫৪, ৩৫৫. ৩৫৭-৩৬৩, ৩৭০, ৩৭৪, ৩৮৪, ৩৮৮, ৩৮৯, ৪০৩, ৪০৪, ৪১৭-৪৩৫, ৪৪৭, ৪৪৮, ৪৫১, ৪৬১-৪৬৫, ৪৬৯-৪৭৫, ৪৭৭ক-৪৮৯, ৪৮৯গ, ৪৯১, ৪৯৪-৫০৪, ৪০৬-৫১০।

যৌতুকের শাস্তির বিধান

যৌতুকের শাস্তির বিধান নিম্নরূপ : যদি কোন ব্যক্তি যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ করে অথবা প্রদান বা গ্রহণে প্ররোচনা বা উৎসাহ দেয় তা হলে তার পাঁচ বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড হতে পারে এবং এক বৎসরের কম নয় এমন কারাদন্ডে বা জরিমানায় কিংবা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হবেন। যদি কোন ব্যক্তি বর বা কনের পিতামাতা বা অভিভাবকের নিকট হতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন যৌতুক দাবি করে তা হলে তিনি পাঁচ বৎসর মেয়াদ পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য এবং এক বৎসর মেয়াদের কম নয় এমন কারাদন্ডে বা জরিমানায় বা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হবেন। যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য কোন নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম করেন বা সাধারণ জখম করেন তা হলে ঐ স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি – মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং উভয় ক্ষেত্রে ঐ দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন। মারাত্মক জখম করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বছর কিন্তু কম...

তালাক কি? মুসলিম আইন অনুযায়ী তালাক ও তালাকের পদ্ধতি কি? তালাক প্রাপ্ত স্বামী-স্ত্রী কি পুনরায় বিয়ে করতে পারবে?

তালাক কি? তালাক শব্দটির উৎস আরবী ভাষা থেকে, যার অর্থ কোনো কিছু ভেঙ্গে ফেলা বা ছিন্ন করা। মুসলিম আইনের বিধান মতে তালাক স্বামী-স্ত্রীর একটি বৈধ ও স্বীকৃত অধিকার যখন স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, দুইজনের পক্ষে একত্রে বসবাস করা সম্ভব হয় না তখন যে কোন পক্ষ থেকে বা উভয়ে কিছু নির্দিষ্ট উপায়ে তালাকের মাধ্যমে তাদের এই সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারেন। মুসলিম আইন অনুযায়ী তালাক ও তালাকের পদ্ধতি আইনের বিধানমতে তালাক দেবার ক্ষমতা বা অধিকার স্বামী ও স্ত্রীর সমান নয়৷ স্বামীর এক্ষেত্রে প্রায় একচ্ছত্র ক্ষমতা রয়েছে। স্বামী বা স্ত্রী যে কোন এক জনের ইচ্ছেতে (কিছু আইনগত শর্ত পূরণের মাধ্যমে) তালাক হতে পারে৷ মুসলিম আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত ভাবে তালাক দেওয়া যায়: স্বামীর পক্ষ থেকে তালাক: আমাদের দেশে প্রচলিত মুসলিম আইন অনুযায়ী একজন পূর্ন বয়স্ক ও সুস্থ মস্তিস্কের মুসলিম ব্যক্তি যে কোন সময় কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই তার স্ত্রীকে তালাক দিতে পারে। আইনের কাছে তাকে কোন জবাবদিহি করতে হয়না এবং স্ত্রী, তাকে কেন তালাক দেওয়া হল তা জানতে চাইতে পারেনা। তবে এক্ষেত্রে এখনও অনেকে মনে করেন “এক তালাক, দু...

রিমান্ড কি?

রিমান্ড হল কোন আমলযোগ্য অপরাধে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোন আসামীকে পুলিশি হেফাজতে আটক রাখা। যাকে আটক করা হয়েছে তাকে সন্দেহের ভিত্তিতেও আটক করা যেতে পারে। ফৌজদারী কার্যবিধিতে রিমান্ড শব্দের ব্যবহার নেই, Detention বা আটক ব্যবহার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার করে ২৪ ঘন্টা আটক রাখা যাবে। তারপর আটককৃত ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হয়। ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যদি প্রমানিত হয় আটককৃত ব্যক্তি নির্দোষ তবে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে মুক্তি দিবেন। যদি প্রমান হয় আটককৃত ব্যক্তি অপরাধী বা আরও তথ্য উদঘাটন প্রয়োজন আছে তবে তিনি রিমান্ডের সময় বাড়াতে পারেন। তবে সময় পনেরো দিনের বেশি হবে না। আর রিমান্ডে মারধোর করার কোন বিধান নাই।

ফৌজদারী নালিশা আরজি ড্রাফট

ফৌজদারী নালিশা আরজি ড্রাফটিং এর ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলী মনে রাখা খুবই জরুরী। নালিশা আরজিতে নিম্নলিখিত বিষয় গুলি পর্যায়ক্রমে লিখতে হয়। যেমনঃ- ১। শিরোনাম অংশ ঃ- এই অংশে আদালতের নাম উল্লেখ করা হয়ে থাকে। ২। দরখাস্থকারীর / ফরিয়াদির বিস্থারিত পরিচয়ঃ- মামলার বাদীকে কোর্টে এসে মামলা করলে তাকে ফরিয়াদি বা দরখাস্থকারী বলা হয়ে থাকে। এই অংশে ফরিয়াদীর নাম, বয়স, পিতা বা স্বামীর নাম, গ্রাম, ডাক, ইউনিয়ন, থানা ও জেলার নাম উল্লেখ করতে হয়। ৩। অভিযুক্তগণের বিস্থারিত পরিচয়ঃ- সি আর মামলার ক্ষেত্রে আসামী পক্ষকে অভিযুক্তপক্ষ বলা হয় থাকে। এই অংশে অভিযুক্তগণের নাম, বয়স, পিতার নাম, গ্রাম,ডাক,ইউপি নাম, থানা ও জেলার নাম উল্লেখ করতে হবে। ৪। ঘঠনার তারিখ ঃ- মামলার ক্ষেত্রে এই অংশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে তারিখে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার বিস্থারিত বর্ণনা দিতে হয়। ৫। সময়ঃ- ঘঠনার সময় ও বিস্থারিত বর্ণনা করতে হবে। ৬। ঘঠনার স্থানঃ- অপরাধ কোন জায়গায় সংঘঠিত হয়েছে তার বিস্থারিত বর্ণনা উল্লেখ করতে হবে। ৭। ধারাঃ- দন্ডবিধির কোন কোন ধারায় অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে তার বর্ণনা দিতে হবে। ৮। সাক্ষীগণের পরিচয়ঃ - অপরাধ সংঘঠিত হওয়ার সময় উপস্থিত ...

বহুবিবাহের কারণ কি?

সন্তানের আকাঙ্খা। ছেলে সন্তান না থাকা। যৌতুকের লোভ। শিক্ষার অভাব। কুসংস্কার। নৈতিক অধ:পতন। উত্তরাধিকার আইনে কন্যার সমান অধিকার না থাকা।

বহুবিবাহের সামাজিক ফলাফল কি?

বহুবিবাহের ফলে পরিবার ও সমাজে অশান্তি বেড়ে যায়। পরিবারের শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহুবিবাহ পুরুষের একচেটিয়া অধিকার হওয়ার কারণে আমাদের সমাজে একাধিক বিয়ের মাধ্যমে নারী নির্যাতন করা হয়। তাই মুসলিম আইনের বহুবিবাহ ধারার সংশোধন ও যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

ইসলাম কি বহুবিবাহকে উৎসাহিত করেছে?

না, ইসলামে বহুবিবাহের যে শর্ত প্রদান করা হয়েছে তা পালন করা যে কোন মানুষের পক্ষে অসম্ভব। ফলে এই শর্তের দ্বারা ইসলাম বহুবিবাহকে নিরুৎসাহিত করেছে।

বহুবিবাহের শাস্তি কি?

অনুমতি ছাড়া বহুবিবাহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এক্ষেত্রে শাস্তি হলো এক বছরের বর্ধনযোগ্য বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়দন্ড।

কৃষি আয় (আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ২৬ অনুযায়ী)

কৃষি আয় (আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ২৬ অনুযায়ী) কৃষি খাতে আয়ের জন্য হিসাবের খাতাপত্র না রাখা হলে নীচে দেয়া উপায়ে কৃষি আয় হিসাব করতে হবেঃ ধরা যাক জনাব রফিকের কৃষি জমির পরিমাণ ২ একর। একর প্রতি ধান উৎপাদনের পরিমাণ ধরা যাক ৪৫ মণ। প্রতিমণ ধানের বাজারমূল্য ৮০০/- টাকা হলে নীট করযোগ্য কৃষি আয়ের পরিমাণ হবেঃ ২ একর * ৪৫ মণ * বাজার মূল্য ৮০০/- = ৭২,০০০/- টাকা বাদঃ উৎপাদন ব্যয় ৬০% = ৪৩,২০০/- টাকা নীট কৃষি আয় = ২৮,৮০০/- টাকা। কোন করদাতার আয়ের উৎস যদি শুধুমাত্র কৃষি খাত হয়ে থাকে অর্থাৎ যদি কোন করদাতার কৃষি খাতের আয় ব্যতীত আর কোনো আয় না থাকে তা হলে তার জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা হবে- (ক) ৬৫ বছরের নীচে পুরুষদের বেলায়ঃ (২,২০,০০০ + ২,০০,০০০) = ৪,২০,০০০ টাকা। (খ) মহিলা বা ৬৫ বছর বা তদুর্ধ্ব বয়সের পুুরুষদের বেলায়ঃ (২,৭৫,০০০ + ২,০০,০০০) = ৪,৭৫,০০০ টাকা। (গ) প্রতিবন্ধী করদাতার বেলায়ঃ (৩,৫০,০০০ + ২,০০,০০০) = ৫,৫০,০০০ টাকা। (ঘ) গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের বেলায়ঃ (৪,০০,০০০ + ২,০০,০০০) = ৬,০০,০০০ টাকা।

দেনমোহর কি ?

দেনমোহর কি ? দেনমোহর হলো কিছু টাকা বা অন্য কিছু সম্পত্তি যা বিবাহের প্রতিদান স্বরূপ স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে পাবার অধিকারী। দেনমোহর নির্ধারণ পদ্ধতি : বর ও কনের উভয়ের দিক বিবেচনা করে দেনমোহর নির্ধারিত হয়। দেনমোহর কত হবে তা নির্ণয়কালে স্ত্রীর পিতার পরিবারের অন্যান্য মহিলা সদস্যদের ক্ষেত্রে যেমন স্ত্রীর বোন, খালা, ফুফুদের ক্ষেত্রে দোনমোহরের পরিমাণ কত ছিলো তা বিবেচনা করা হয়। তা ছাড়া স্ত্রীর পিতার আর্থ-সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। অপর দিকে বরের আর্থিক ক্ষমতার দিকও বিবেচনা রাখা হয়। এসব দিক বিচার বিবেচনা করেই মূলত দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই স্বামী নূন্যতম ১০ দিরহাম বা সমপরিমাণ অর্থ অপেক্ষা কম নির্ধারণ করতে পারবেন না। #দেনমোহরের প্রকারভেদ দেনমোহরের বাবদ দেয় অর্থ দুই ভাগে বিভক্ত : ১. তাৎক্ষনিক দেনমোহর : তাৎক্ষনিক দেনমোহর স্ত্রী চাওয়ামাত্র স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে। এ ক্ষেত্রে স্ত্রী তাৎক্ষনিক দেনমোহর না পাওয়া পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে বসবাস ও দেহমিলনের সুযোগ দিতে অস্বীকার করতে পারেন। ২. বিলম্বিত দেনমোহর : দেনমোহরের যে অংশটুকু স্বামীর মুত্যুর ...

থানায় পুলিশ মামলা না নিলে প্রতিকার কী?

থানায় পুলিশ মামলা না নিলে প্রতিকার কী? ফৌজদারি মামলার একটা বড় অংশের কার্যক্রম শুরু হয় থানায় এজাহার দায়েরের মধ্য দিয়ে। আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর কোনো নাগরিক থানায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ বিনামূল্যে সে মামলা নিতে বাধ্য। কোনো কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থানায় মামলা নিতে না চাইলে সংক্ষুব্ধ নাগরিক কী করবেন? সে বিষয়টি তুলে ধরে হলো। থানায় মামলা অপরাধ সংঘটনের পর বিচারপ্রার্থীর প্রথম কাজ হলো থানায় মামলা দায়ের করা। এর পর মামলা তদন্তের মাধ্যমে শুরু হয় বিচারকাজ। পুলিশ বিনামূল্যে সে মামলা নিতে বাধ্য। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, প্রভাবশালীদের চাপে থানার পুলিশ মামলা নিতে চায় না। মামলার বাদী তুলনামূলক দুর্বল হলে থানার পুলিশ এ ধরনের আচরণ করে থাকে বলে অভিযোগ শোনা যায়। দৃশ্যপট-১ নিজে একজন নারী ও পুলিশ সদস্য। তিনি গণধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন অপর এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, যিনি তাঁর সাবেক স্বামী। পুলিশ হওয়া সত্ত্বেও ধর্ষণের মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ তা নেয়নি। দৃশ্যপট-২ রেহানাকে (ছদ্মনাম) নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত তারই সহপাঠী অর্ণব (ছদ্মনাম)। একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে রেহানাকে বাজে প্রস্তাব দেয় অর্ণব। প্রত...

মহিলা শ্রমিক নিয়োগের বিষয়ে আইনের বিধানাবল

মহিলা শ্রমিক নিয়োগের বিষয়ে আইনের বিধানাবলীঃ- ১। নৈশ শিফ্টে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। ২। ধৌত করণের সুবিধা থাকতে হবে। ৩। মহিলাদের সন্তানদের জন্য আলাদা কক্ষ থাকতে হবে। ৪। চলমান যন্ত্রে কাজ করার সুবিধা থাকতে হবে। ৫। তুলা ধুনা যন্ত্রে কাজ করতে দেওয়া যাবে না। ৬। ভারি মালামাল বহন করতে দেওয়া যাবে না। মহিলা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঃ ১। শ্রম আইনের ১০৯ ধারায় বলা হয়ছে যে, মহিলা শ্রমিক কে তার অনুমতি ছাড়া রাত দশটা হতে ভুর ছয়টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কাজ করানো যাবেনা। ২। শ্রম আইনের ৩৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন প্রতিস্টানে যন্ত্রপাতি চালু অবস্থায় তা পরিস্কারের জন্য, এতে তেল প্রদানের জন্য বা একে সুবিন্যাস্ত করার জন্য বা উক্ত চালু যন্ত্রপাতির ঘূর্ণায়মান অংশগুলির মাঝখানে অথবা স্থির এবং ঘূর্ণায়মান অংশগুলির মাঝখানে কোন মহিলা শ্রমিক কে কাজ করার অনুমতি দেওয়া যাবে না। ৩। শ্রম আইনের ৪২ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন মহিলাকে ভূগর্ভে বা পানির নিচে কোন কাজে নিয়োগ করা যাবে না। মহিলা শ্রমিকদের কর্মঘন্টাঃ- ১। কোন অবস্থাতেই মহিলা শ্রমিককে দৈনিক নয় ঘন্টার বেশি সময় কাজ করানো যাবেনা। ২। নৈশ শিফ্টে তাদেরকে কাজ করানো যাবেনা। ৩। সকাল সাতটা হতে...

ওয়াকফ কি?

ওয়াকফ কি? মালিকানার দাবি না রেখে ধর্মীয় বা দাতব্য কাজের জন্য স্থায়ীভাবে কোন সম্পত্তি উৎসর্গ করাকে ওয়াকফ বলা হয়৷ ১৯৬২ সালের ওয়াকফ অধ্যাদেশ এর ২ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো মুসলমান কর্তৃক ধর্মীয়, পবিত্র বা দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্থায়ী ভাবে উৎসর্গ করাকে বুঝায়৷ যিনি ওয়াকফ করেন তাকে ওয়াকিফ বলা হয়। ওয়াকফের শর্তাবলী: • ওয়াকিফকে অবশ্যই সুস্থ মস্তিস্কের অধিকারী ও সাবালক হতে হবে। • ওয়াকফের উদ্দেশ্যে যে সম্পত্তি উৎসর্গ করা হবে তা অবশ্যই চিরস্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে হবে। • ওয়াকফের উদ্দেশ্যে অবশ্যই মুসলিম আইন অনুযায়ী ধর্মীয় বা দাতব্য প্রকৃতির হতে হবে। • স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি উভয়ই বৈধ ওয়াকফের বিষয়বস্তু হতে পারে। • ওয়াকিফ যে সম্পত্তি উৎসর্গ করবেন অবশ্যই তা বৈধ মালিকানার হতে হবে। • ওয়াকফটি সম্পূর্ণ হওয়ার পর তা হস্তান্তর অযোগ্য হয়ে যায়। অমুসলিম ব্যক্তি কর্তৃক ওয়াকফ: অমুসলিম ব্যক্তিও ওয়াকফ করতে পারবেন। কিন্তু তা ওয়াকফ সৃস্টিকারী ব্যক্তির ধর্ম অনুসারে বৈধ বা আইনসঙ্গত হতে হবে।এক্ষেত্রে উৎসর্গকারীকে অবশ্যই ইসলামের মূলনীতিতে বিশ্বাস থাকতে হবে।ক...

ইকুইটির নীতিমালা

ইকুইটির নীতিমালা ঃ ১। ন্যায়পরতা আইনকে অনুসরণ করে। ( Equity follows the law). ২। যিনি ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেন; তাকে অবশ্যই ন্যায়পরায়ণ হতে হবে। (He who seeks equity must equity). ৩। ন্যায়পরতা প্রার্থকে অবশ্যই পরিচ্ছন্ন হাতে আসতে হবে।(He who comes to equity must come with clean hands). ৪। বিলম্ব ইকুইটিকে ব্যর্থ করে। ( Delay defeats equity). ৫। সমতাই ন্যায়পরতা। ( Equality is equity). ৬। ইকুইটি বাহ্যিক আকৃতি অপেক্ষা উদ্দেশ্যকে গুরুত্ব দেয়। ( Equity looks to the intent rather than to the form.)

ইকুইটি আদালতের এখতিয়ার প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা

ইকুইটি আদালতের এখতিয়ার প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা :- ১। আইনের অপর্যাপ্ততা ২। পদ্বতিগত ক্রুটি ৩। আইনের অনমনীয়তা ৪। প্রতিকারের ক্ষেত্রে নিরবতা ৫। স্বাভাবিক ন্যায়বিচার ( Natural justice) প্রতিস্ঠা ৬। আইনগত অধিকার সংরক্ষণ ৭। কমন ল' আদালতের এখতিয়ারের অপর্যাপ্ততা ৮। সুস্পষ্ট আইনের বিধান না থাকা ৯। সাক্ষ্য প্রমাণ ও দলীল উপস্থাপন ১০। সম্পত্তি ভিত্তিক এখতিয়ার ১১। সকল ক্ষেত্রে সঠিক প্রতিকারের অভাব ১২। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকা।

প্রশ্ন : দোকান ও প্রতিষ্টান আইন কিভাবে কর্মচারীদের স্বার্থ সংরক্ষন করে? দোকান ও শিল্প প্রতিষ্টানের সাপ্তাহিক বন্ধের বিধান আলোচনা কর । এই বিধান লঙ্গন করলে কি শাস্তির ব্যাবস্থা রয়েছে ?

উত্তর: দোকান ও প্রতিষ্ঠান আইনের দ্বারা কর্মচারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ : ২০০৬ সালের বাংলাদেশ শ্রম আইনের দোকান ও প্রতিষ্টান আইনটি মূলত সেখানে কর্মরত কর্মচারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য প্রণীত হয়েছে । এর পূর্বে দোকান ও প্রতিষ্টানে কর্মরত কর্মচারীদের চাকরী সম্পূর্ণরূপে মালিকের ইচ্ছাধীন ছিল। কোন ছুটি বা উৎসবের ব্যবস্থা ছিল না । কর্মের কার্যকাল ও শর্তাবলী নির্দিষ্ট ছিল না । এই আইনটি চালু হবার পর দোকান ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি, বন্ধ ও দৈনিক কার্যকালের বিধান রাখা হয়েছে । এছাড়া স্ববেতনে উৎসব ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটি ও অসুস্থতার ছুটির বিধান রাখা হয়েছে । স্বাস্থা রক্ষায় উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা, মহিলা ও তরুণ শ্রমিকদের বিশেষ ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়েছে । এগুলি যথাযথভাবে তত্ত্বাবধান করার জন্য প্রধান পরিদর্শক নিয়োগ করা হয়েছে এবং এই আইনের বিধান লঙ্গন করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে । এভাবে দোকান ও প্রতিষ্ঠান আইন কর্মচারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে আসছে । দোকান ও শিল্প প্রতিষ্টানের সাপ্তাহিক বন্ধের বিধান : দোকান ও শিল্প প্রতিষ্টানের সাপ্তাহিক বন্ধের বিধান নিম্নে আলোচনা করা হল - ধারা...