Skip to main content

Posts

Showing posts from April, 2017

সামাজিক নৈতিকতা ও সামাজিক পরিবর্তন - Jurisprudence (Class Note)

প্রশ্ন: সামাজিক নৈতিকতা ও সামাজিক পরিবর্তন বলতে বুঝ? আইন ব্যবস্থার ধারণা ও রাষ্ট্রের সহিত আইনের আন্তঃসম্পর্ক আলোচনা কর। উত্তর: সামাজিক নৈতিকতা : সামাজিক অসমতার কারণে সামাজিক নৈতিকতার প্রয়োজন । অসমতা যেমন- নারী-পুরুষের পার্থক্য, ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ, উচ্চপদ-নিম্নপদ শ্রেণীভেদ ইত্যাদি। সামাজিক নৈতিকতা বলতে বুঝায় সকল নাগরিককে সমানভাবে দেখা, রাষ্ট্রের সকল সুবিধা সব নাগরিকের সমানভাবে ভোগ করতে পারা । সামাজিক পরিবর্তন : উইলিয়াম ……. এর মতে, সমাজে বসবাসকারী মানুষের কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে সামাজিক পরিবর্তন বলে। সামাজিক পরিবর্তনের উপাদান - প্রাকৃতিক পরিবেশ, রাজনৈতিক অবস্থা, অর্থনৈতিক পরিবর্তন, শিক্ষা, ধর্ম, বিজ্ঞান, সংস্কৃতিগত পরিবর্তন, প্রচার-প্রচারণা, সামাজিক আন্দোলন, যোগাযোগ ব্যবস্থা। আইন ব্যবস্থার ধারণা : ৫টি উপাদান বিদ্যমান আইন ব্যবস্থায় বিদ্যমান থাকলে রাষ্ট্রে সুশাসন আছে বলা যায়- (ক) অপরাধী যে হবে তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, (খ) যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ পাবে, (গ) চুক্তি করলে চুক্তির অধিকার ভোগ করলে, ভঙ্গ করলে শাস্তি পাবে, (ঘ) দেওয়ানী ও ফৌজদারী উভয়...

সংবিধিবদ্ধ আইন - Jurisprudence (Class Note)

প্রশ্ন: সংবিধিবদ্ধ আইন কি? ইহা বলা কি সঠিক হবে যে, ফৌজদারী কার্যবিধি সম্পূর্ণরূপে পদ্ধতিগত আইন? বিচারিক পদ্ধতির সাধারণ উপাদানসমূহ ব্যাখ্যা কর। উত্তর: সংবিধিবদ্ধ আইন: আধুনিক জগতে আইন প্রণয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইনগত বিধিবিধান জারী করাকে আইন প্রণয়ন বলে। ব্যাপক অর্থে আইন সৃস্টির সকল পদ্ধতিই আইন প্রণয়নের অন্তর্ভূক্ত। কিন্তু প্রকৃত অর্থে আইনসভা কর্তৃক সৃস্ট আইনকে আইন বলা হয়। এরূপে প্রণীত আইনকে বিধিবদ্ধ আইন বা সংবিধিবদ্ধ আইন বলে। এই বিধিবদ্ধ আইন রাস্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী সংস্থা প্রণীত হয় এবং উহার পরিবর্তন, সংশোধন, বাতিল করার ক্ষমতা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ বা আইন প্রণয়নকারী সংস্থার নাই। তাই বর্তমান যুগে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হিসাবে আইন সভাই সংবিধিবদ্ধ আইন প্রণয়ন করে। ফৌজদারী কার্যবিধি সম্পূর্ণরূপে পদ্ধতিগত আইন: পদ্ধতিগত আইন হল ঐ সকল আইন ও বিধি যার দ্বারা স্থায়ী আইন সমূহ বাস্তবে প্রয়োগ ও কার্যকর হয়। অর্থাৎ জনসাধারণ ও সরকারের অধিকার ও কর্তব্য কার্যকর হয়। ফৌজদারী কার্যবিধি আইন হল সেই আইন যার দ্বারা স্থায়ী আইনসমূহ প্রয়োগ হয় এবং জনসাধার...

মূল আইন ও পদ্ধতিগত আইন - Jurisprudence (Class Note)

প্রশ্ন : মূল আইন ও পদ্ধতিগত আইনের সংঙ্গা দাও। এদের মধ্যে পার্থক্য দেখাও। দেওয়ানী কার্যবিধি কি নিছক পদ্ধতিগত আইন - যুক্তি দেখাও। দেওয়ানী বিচার ও ফৌজদারী বিচারের মধ্যে পার্থক্য দেখাও। উত্তর: মূল আইন : যে আইন মানুষের অধিকার নিরুপণ করে তাকে মূল আইন বলে। যেমন - দন্ডবিধি আইন, চুক্তি আইন, সুনির্দস্ট প্রতিকার আইন। পদ্ধতিগত আইন: যে আইন অধিকার প্রয়োগ করে তাকে পদ্ধতিগত আইন বলে। যেমন - ফৌজদারী আইন। পার্থক্য : ১. কোন কাজটি অন্যায় বা অবৈধ তা নির্ধারণ করে মূল আইন । পক্ষান্তরে, কিভাবে সেটি অন্যায় তা প্রমাণ করে পদ্ধতিগত আইন। ২. কোন নির্দিষ্ট অপরাধ আর্থিক দন্ডে দন্ডনীয় না কারাদন্ডে দন্ডনীয় তা মূল আইনগত প্রশ্ন। পক্ষান্তরে, সংক্ষিপ্ত বিচারের অভিযোগ এনে নিয়মিত বিচারে দন্ড দেয়া হবে কিনা তা পদ্ধতিগত আইনের প্রশ্ন। ৩. মৃত্যুদন্ডের বিধান বিলোপ করা হলে তা মূল আইনের পরিবর্তন । পক্ষান্তরে, ঋণের জন্য কারাদন্ডের বিধান বিলোপ করা হলে তা পদ্ধতিগত আইনের পরিবর্তন । “দেওয়ানী কার্যবিধি একটি নিছক পদ্ধতিগত আইন” - দেওয়ানী কার্যবিধি মূল আইন ও পদ্ধতিগত আইনের সংমিশ্রণ। দেওয়ানী কার্যবিধিতে ১৫৫টি ধারা, দ্বিতীয়ভাগে ৫০টি ...

ব্যক্তি - Jurisprudence (Class Note)

প্রশ্ন: ব্যক্তির সংজ্ঞা দাও ? প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম ব্যক্তি বলিতে কি বুঝ? অজাত ব্যক্তি, কৃত্রিম ব্যক্তি এবং পশুর আইনগত আইনগত অবস্থা বর্ণনা কর। ব্যক্তি: বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১১ ধারায় ব্যক্তির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যে অধিকার ধারণ, সংরক্ষন ও কর্তব্য পালনে সক্ষম তাদের ব্যক্তি বলা হয়। স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক ব্যক্তি : যে সব জীবিত মানুষ রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত অধিকার ভোগ ও কর্তব্য পালন করে থাকে সে সব ব্যক্তিকেই স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক ব্যক্তি বলা হয় । এই সব ব্যক্তির অবস্থান আইন ও তত্ত্ব দ্বারা স্বীকৃত। আইনানুগ বা কৃত্রিম ব্যক্তি: কৃত্রিম ব্যক্তি বা আইনানুগ ব্যক্তি বলতে কোন বিশেষ সংস্থা বা প্রতিষ্টানকে বুঝায় যারা আইনের দৃষ্টিতে ব্যক্তিত্বের মর্যাদা লাভ করেছে। কোন কোম্পানী, কোন সংস্থা হল আইনানুগ বা কৃত্রিম ব্যক্তির উদাহরণ। কৃত্রিম ব্যক্তির আয়ু অসীম এবং ক্ষমতা আইন দ্বারা সীমাবদ্ধ। ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য : ১. অধিকার ধারণে সক্ষম, ২. অধিকার সংরক্ষনে সক্ষম, ৩. কর্তব্য পালনে সক্ষম । অজাত ব্যক্তি: যার এখনো জন্ম হয় নাই কিন্তু মাতৃগর্ভে আছে তাকে অজাত ব্যক্তি বলা হয়। বাংলাদেশ দন্ডবিধির ...

আইন অনুযায়ী বিচার - Jurisprudence (Class Note)

আইন অনুযায়ী বিচার বলতে কি সংক্ষেপে এর সুবিধা অসুবিধা নির্ণয় কর? আদালতের আইন অনুযায়ী বিচার করার দায়িত্ব আইনানূগ না নৈতিক আলোচনা কর। আইন অনুযায়ী বিচার : মানুষের অধিকার সংরক্ষণ করাকেই বিচার বলা হয় । সাধারণ অর্থে আইন অনুযায়ী যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন বিরোধীয় বিষয়ে সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে রায়, আদেশ বা ডিক্রীর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়, সেই পদ্ধতিকে আইন অনুযায়ী বিচার বলা হয়। এরিষ্টটলের ভাষায়, যে রাষ্ট্র ন্যায়বিচার পরিচালনা করে এবং সফলভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করে সেই রাষ্ট্রই একটি আদর্শ রাষ্ট্র। সুবিধা: অসুবিধা: (১) অনমনীয়তা: আইন অনমনীয় থাকার কারণে নিরপরাধ ব্যক্তিও জামিন পায়না। (২) ক্ষমতার অপপ্রয়োগ: জামিনের ক্ষেত্রে বিচারকের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার অপপ্রয়োগ। আদালতের আইন অনুযায়ী বিচার করার দায়িত্ব আইনানূগ না নৈতিক : আদালতের আইন অনুযায়ী বিচার করার দায়িত্ব আইনানূগ । আদালত আইন দ্বারা সৃষ্ট, আইন দ্বারা পরিচালিত। অধঃস্তন আদালত ইকুইটি আইন প্রয়োগ করতে পারেনা। হাইকোর্ট ও আপীল বিভাগের বিচারপতিরা ইকুইটি আইন প্রয়োগ করতে পারেন।